আহলে বাইয়াতকে ভালবাসা উম্মতের উপর ওয়াজিব
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)'র ভালবাসা সমস্ত প্রিয় বস্তুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে পাকে বলা হয়েছে:
قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشيرتكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبُّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُوله وجهاد في سبيله فترَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي القوم الفاسقين
তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা-মাতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান- যাকে তোমরা পছন্দ কর- আল্লাহ, তাঁর রাসূল (ﷺ) ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর আযাব আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেননা। ৩২
বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أجمعين
রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতে পারবেনা যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্তুতি ও অন্যান্য সকল লোক থেকে অধিক প্রিয় হই।৩৩
উপরোক্ত কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক মু'মিনের উপর রাসূল (ﷺ) 'র ভালবাসা ওয়াজিব। এজন্য ইমাম মুসলিম (رحمة الله) মুসলিম শরীফে ১৫ নম্বর বাবে বলেছেন-
وُجُوبُ مَحَبَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْثَرَ مِنَ الْأَهْلِ وَالْوَلَدِ وَالْوَالِدِ وَالنَّاسِ - أجمعين
স্বীয় পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি, পরিবারের সকলের চেয়ে এমনকি সকল লোকের চেয়ে রাসূল (ﷺ)কে অধিক ভালবাসা ওয়াজিব।
অতএব প্রমাণিত হল যে, আল্লাহ এবং রাসূল (ﷺ)কে ভালবাসা প্রত্যেক মু'মিনের উপর ওয়াজিব। আর আল্লাহ এবং রাসূল (ﷺ)কে ভালবাসা প্রমাণিত হবে তাঁরা যাদেরকে ভালবাসেন তাদেরকে ভালবাসার মাধ্যমে। যেহেতু আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ) আহলে বাইয়াতে রাসূল (ﷺ)কে ভালবাসেন সেহেতু আহলে বাইয়াতকে ভালবাসা প্রত্যেক মু'মিনের জন্য আবশ্যক। আরবীতে প্রবাদ আছে
محبوب المحبوب محبوب
প্রিয়জনের প্রিয়বস্তুও প্রিয় হয়।
তিরমিযী শরীফে ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
قَالَ رَسُولُ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَحِبُّوا الله لما يَعْذُوكُمْ به من نعمة، وَأَحِبُّونِي لِحُبِّ الله، وَأَحِبُّوا أَهْلَ . بيني لحي
রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, কেননা, তিনি তোমাদেরকে নেয়ামত প্রদান করেন, আর আমাকে ভালবাস আল্লাহর ভালবাসার কারণে এবং আমার আহলে বাইতকে ভালবাস আমার ভালবাসার কারণে।
৩২. সূরা তাওবা, আয়াত-২৪
৩৩. শায়খ ওয়ালী উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (رحمة الله) (৭৪০হি.) মিশকাত শরীফ, পৃঃ-১২
৩৪. ওয়ালী উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (رحمة الله) (৭৪০হি), মিশকাত শরীফ, পৃঃ-৫৭৩
এই হাদিসের ব্যাখ্যা হলো তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, কারণ তিনি তোমাদের সৃষ্টিকর্তা, আর আল্লাহর ভালবাসা পেতে হলে আমাকে ভালবাস কেননা আমার ভালবাসার মাধ্যমে আল্লাহর ভালবাসা অর্জিত হয়। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে-
قُلْ إِن كنتم تحبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبَعُونِي يُحْبُكُمُ اللَّهُ
আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা চাও তবে আমার অনুসরণ কর তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন। আর তোমরা আমার ভালবাসা পেতে চাইলে আমার আহলে বাইতকে ভালবাস। কারণ যারা তাঁদেরকে ভালবাসবে আমিও তাদেরকে ভালবাসি।
তাছাড়া রাসূল (ﷺ)ও উম্মত থেকে আহলে বাইতের ভালবাসা কামনা করেছেন।
قُلْ لا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ في القربي
হে নবী! বলুন, আমি আমার ইসলামের দাওয়াতের বিনিময়ে কিছুই চাইনা কেবল চাই আমার নিকটতম আত্মীয়দের প্রতি তোমাদের ভালবাসা।৩৫
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)'র খেদমতে আরয করলেন:
يا رسول الله من قرابتك هؤلاء الذين وجبت علينا مودتهم؟ قال علي وفاطمة وولده
হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার নিকটতম আত্মীয় কারা যাঁদেরকে ভালবাসা আমাদের উপর ওয়াজিব হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন- এরা হলো আলী ও ফাতিমা এবং তাদের দু'সন্তান।৩৬
হযরত আলী (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ), হযরত হাসান ও হোসাইন (رضي الله عنه)'র হাত ধরে এরশাদ করেন:
مَنْ أَحَبَّنِي وَأَحَبُّ هَذَيْنِ وَأَبَاهُمَا وَأَمَّهُمَا كَانَ مَعِي فِي دَرَجَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ - * *
যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে এবং এ দু'জনকে ও এঁদের পিতা-মাতাকে ভালবাসবে, সে কিয়ামতের দিন আমার সাথে আমার মর্যাদায় থাকবে।৩৭
হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) এটি এরশাদ করেন-
منْ أَحَب الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي
যে হাসান ও হোসাইনকে ভালবাসবে সে মূলত আমাকে ভালবাসবে। আর যে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে সে মূলত আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে।৩৮
৩৫. সূরা শূরা, আয়াত-২৩
৩৬. জালাল উদ্দিন সুহূতী (رحمة الله) (৯১১ হি.), তাফসীরে দূররে মনসুর, খণ্ড-৬, পৃঃ-৭, ইবনে হাজার মক্কী (رحمة الله) (৯৭৪ হি.) আস-সাওয়ায়েকে মুহাররকা, পৃঃ-১৬৮), আল্লামা যুরকানী (رحمة الله) (১১২২হি) শরহে মুআহিবুল লাদুনী খণ্ড-৭, পৃঃ-৩০
৩৭. তিরমিযী সূত্র: আল্লামা শফী উকাড়বী (رحمة الله), সফীনায়ে নূহ (عليه السلام), ইউসুফ নাবহানী (رحمة الله) (১৩৫০হি.) আশ শরফুল মুআব্বাদ, পৃঃ-৮৬
৩৮. ইবনে মাজাহ (رحمة الله) (২৭৩হি.), ইবনে মাজাহ শরীফ, খণ্ড-১, পৃঃ-৬৪ সূত্র- আল্লামা শফী উকাড়বী (رحمة الله) সফীনায়ে নূহ (عليه السلام), পৃ-১৬)
হযরত সালমান ফার্সী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)কে বলতে শুনেছি- হযরত হাসান ও হোসাইন আমার সন্তান।
مَنْ أَحَبُّهُمَا أَحَبَّنِي، وَمَنْ أَحَينِي أَحَبَّهُ اللهُ، وَمَنْ أَحَبَّهُ اللَّهُ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ، وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا أَبْغَضَي، وَمَنْ أَبْغَضَنِي أَبْغَضَهُ اللَّهُ، وَمَنْ أَبْغَضَهُ اللَّهُ أَدْخَلَهُ النَّارَ»
যে এ দু'জনকে ভালবাসবে সে আমাকে ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসবে তাকে আল্লাহ ভালবাসবেন। আর আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন। পক্ষান্তরে যে হাসান ও হোসাইনের সাথে শত্রুতা পোষণ করে সে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করল, আর যে আমার সাথে শত্রুতা পোষণ করে আল্লাহ তার সাথে শত্রুতা পোষণ করবেন। আর আল্লাহ যার সাথে শত্রুতা পোষণ করেন তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।৩৯
হযরত উসামা বিন যায়েদ (رضي الله عنه) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)কে হযরত হাসান ও হোসাইন (رضي الله عنه) কে নিয়ে বলতে শুনেছি:
هَذَانِ ابْنَايَ وَأَبْنَا ابْنَنِيُّ اللَّهُمَّ إِلَى أَحِيُّهُمَا فَأَحْبُهُمَا وَأُحِب مَنْ يُحِبُّهُمَا
এ দু'জন আমার এবং আমার কন্যার সন্তান। হে আল্লাহ! আমি এদেরকে ভালবাসি আপনিও এদেরকে ভালবাসুন এবং যারা এদেরকে ভালবাসে আপনি তাদেরকে ভালবাসুন।৪০
হযরত ইয়ালা ইবনে মুররাহ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
قَالَ رَسُولُ الله صلى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُسَيْنٌ مِنِّي وَأَنَا مِنْ حُسَيْنِ أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبُّ حُسَيْنَا
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেন, হোসাইন আমার আর আমি হোসাইনের। যে হোসাইনকে ভালবাসবে আল্লাহ তাকে ভালবাসবেন। ৪১
হযরত আবু সাঈদ খুদুরী (رضي الله عنه) বলেন, রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন-
والذي نفسي« بيده لا يَبْعَضُنَا أَهْلَ الْبَيْتَ أَحَدٌ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ»
শপথ যে সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ; যে কেউ আমার আহলে বাইতের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।৪২
৩৯. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ হাকেম (رحمة الله) (৪০৫হি.) আল মুস্তাদরাক, খণ্ড-৩, পৃঃ-১৬৬
৪০. ইমাম তিরমিযী (২৭৯হি.) তিরমিযী শরীফ, বাবুল মানকীব।
৪১. তিরমিযী শরীফ, সূত্র মিশকাত শরীফ, পৃঃ-৫৭১)
৪২. আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাকেম (رحمة الله) (৪০৫হি.), আল মুস্তদরাক, খণ্ড-৩, পৃ-১৫০) ও আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (رحمة الله) (৯৭৪হি.) আস সাওয়ায়েকুল মুহাররাকাহ্ পৃঃ- ১৭২
তাবরানী শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন
لَا يُؤْؤمن عبد حتى أكون أحَبَّ إِلَيْه من نفسه، وتكون عترتي أحب إليه من عترته، ويكونَ أَهْلِي أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَهْلِه، »تكُونَ ذَاتِي أَحَبَّ إِلَيْهِ مَنْ ذَاتِهُ;
কোন বান্দাহ পরিপূর্ণ মু'মিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে আমাকে তার প্রাণের চেয়ে অধিক ভালবাসবে। আর আমার আওলাদগণকে নিজের আওলাদের চেয়ে, আমার পরিবারকে নিজের পরিবারের চেয়ে, আমার সত্তাকে নিজের সত্তার চেয়ে বেশী ভালবাসবেনা, সে পরিপূর্ণ মু'মিন হতে পারবে না।৪৩
ইমাম তাবরানী ও হাকেম (رحمة الله) হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন,
وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا صَعِدَ بَيْنَ الرَّكْنِ، وَالْمَقَامِ فَصَلَّى وَصَامَ، ثُمَّ مَاتَوهو مبغض لأهل بيت مُحَمَّد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ النَّارَ
কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহ শরীফের এবং মাকামে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে গিয়ে নামায-রোযায় লিপ্ত হয়। অতঃপর আহলে বাইতে রাসূল (ﷺ) ড্র'র সাথে শত্রুতা পোষণ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ৪৪
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেন-
معرفة آل محمد صلى الله عليه وسلم برائة من النار وحب ال محمد جواز على الصراط والولاية لال محمد امان من العذاب.
পরিবার পরিজনের পরিচিতি লাভ করা ও তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা দোযখ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়। আর তাঁদের সাথে ভালবাসা পোষণ করা পুলসিরাত পার হওয়ার দলীল বা অনুমতিপত্র এবং আলে মুহাম্মদ'র দোস্তি আযাব থেকে মুক্তির গ্যারান্টি।৪৫
ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী (رحمة الله) স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে তাফসীরে কাশশফের উদ্ধৃতি দিয়ে
قل لا استلكم عليه اجرا الا المودة في القربي
আয়াতের তাফসির করতে গিয়ে লম্বা হাদিস বর্ণনা করেছেন। রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন:
৪৩. আল্লাম ইউসুফ নাবহানী (رحمة الله) (১৩৫০হি), আশ শরফুল মুআবাদ, পৃঃ-৮৫
৪৪. আল্লামা ইউসুফ নাবহানী (رحمة الله) (১৩৫০হি.), আশ শারফুল মুআব্বাদ, পূঃ-৯২
৪৫. কাযী আয়ায (رحمة الله) (৫৪৪হি), শেফা শরীফ, খন্ড-২, পৃঃ-৩৫
من مات على حب آل محمد مات شهيدا الا من مات على حب آل محمد مات مغفورا له الا ومن مات على حب آل محمد مات تاليا الا ومن مات على حب آل محمد مات مؤمنا مستكمل الإيمان الا ومن مات على حب آل محمد بشره ملك الموت بالجنة ثم منكر ونكير الأومن مات على حب ال محمد يزف الى الجنة تزف العروس الى بيت زوجها الا ومن مات على حب آل محمد فتح له في قبره بايان الى الجنة الا ومن مات على حب آل محمد جعل الله قبره مزار ملائكة الرحمة الا ومن مات على حب آل محمد على السنة والجماعة الا ومن مات على بعض ال محمد جاء يوم القيامة مكتوبا بين عينه أنس من رحمة الله الأومن مات على حب ال محمد مات كافرًا الأومن مات على بغض آل محمد لم يشم رائحة الجنة.
যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে ইন্তেকাল করবে সে শহীদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে সে তাওবাকারী হিসেবে মৃত্যুবরণ করল। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে সে পরিপূর্ণ মু'মিন হয়ে মৃত্যুবরণ করল। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে তাকে আজরাঈল (عليه السلام) এবং মুনকার-নাকীর ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে এমনভাবে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে যেভাবে দুলহাকে দুলহানের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তার কবরে জান্নাতের দিকে দু'টি দরজা খুলে দেওয়া হবে। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তায়ালা তার কবরকে রহমতের ফেরেশতাদের সাক্ষাতস্থল বানিয়ে দেবেন। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, সে মসলকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উপরই মৃত্যুবরণ করল। পক্ষান্তরে যে আলে মুহাম্মদ'র প্রতি শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় আগমন করবে তার দু'চোখের মধ্যখানে লিখা থাকবে "আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত"। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে, সে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল। সাবধান, যে আলে মুহাম্মদ'র প্রতি শত্রুতা পোষণ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। ৪৬
৪৬. ইমাম ফখরুদ্দিন রাযী (رحمة الله) (৬০৬হি.), তাফসীরে কবীর, খণ্ড-৭, পৃঃ-৩৯০
হযরত উজরাহ (رضي الله عنه) বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ)'র কাছে জিজ্ঞাসা করলাম
كيف الصَّلاةُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ فَإِنَّ اللهَ قَدْ عَلَّمْنَا كَيْفَ تُسَلِّمُ عَلَيْكُمْ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّد وَعَلَى آلِ مُحَمَّد كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
রাসূল (ﷺ)! আপনার আহলে বাইতের উপর কিভাবে দুরূদ পড়া হবে? কেননা আল্লাহ তায়ালা কিভাবে আপনাকে সালাম দেবো তা আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছেন। উত্তরে তিনি বলেন, তোমরা এভাবে বল হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং আলে মুহাম্মদ'র উপর দুরূদ প্রেরণ করুন যেভাবে আপনি ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর দুরূদ প্রেরণ করেছিলেন।৪৭
এই হাদিস দ্বারা নামাযের তাশাহ্হুদের দুরূদ পড়ার সময় আলে মুহাম্মদকেও অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক বলে প্রমাণিত হয়। তাছাড়া নবী করিম বলেছেন-
تصلوا على الصلوة التبراء فقالوا وما الصلوة التبراء؟ قال تقولون اللهم صل على محمد وتمسكون بل قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد.
তোমরা আমার উপর কর্তিত দুরূদ প্রেরণ করিও না। তারা আরয করলেন, কর্তিত দুরূদ কি? উত্তরে তিনি বলেন,
اللهم صل على محمد
বরং এওরূপ বল
وعلى ال محمد اللهم صل على محمد
অর্থাৎ আহলে বাইতকে বাদ দিয়ে দুরূদ পড়লে তা কর্তিত দুরূদ আর তাদের উপর সহ দুরূদ পড়লে তা পূর্ণ ও মকবুল দুরূদ।৪৮
হযরত আবু সাঈদ খুদুরী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন
الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدًا شباب أهل الجنة
হযরত হাসান ও হোসাইন (رضي الله عنه) হলেন জান্নাতের যুবকদের সর্দার। ৪৯
হযরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞাসা করা হলো যে
أَي أَهْلِ بَيْتِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ ) বাইতের মধ্যে আপনার কাছে অধিক প্রিয় কে? উত্তরে তিনি বললেন, হাসান ও হোসাইন।৫০
হযরত আলী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- الْحَسَنُ أَشْبَهُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ الصَّدْرِ إِلَى الرَّأْسِ وَالْحُسَيْنُ أَشبه بالنبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا كَانَ أَسْقَلْ من ذلك
হাসান (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)'র বক্ষ মোবারক থেকে মাথা মোবারক পর্যন্ত অধিক সাদৃশ্য আর হোসাইন নবী করিম (সা:)'র নিম্নভাগের অধিক সাদৃশ্য ছিলেন।"৫১
৪৭. বুখারী ও মুসলিম, সূত্র, মিশকাত শরীফ, পৃঃ-৮৬
৪৮. আল্লামা ইবনে হাজার মক্কী (رحمة الله) (১৭৪হি) আস সাওয়ায়েকুল মুহাররকাহ, পৃঃ-১৪৪
৪৯. তিরমিযী, সূত্র: মিশকাত শরীফ, পৃঃ-৫৭০
৫০. ইমাম তিরমিযী শরীফ, সূত্র:- মিশকাত শরীফ, পৃঃ-৫৭১
৫১. ইমাম তিরমিযী, তিরমিযী শরীফ, সূত্র, মিশকাত শরীফ, পৃঃ- ৫৭১
হযরত আনাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন হযরত হোসাইন (رضي الله عنه)'র মস্তক মোবারক উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের নিকট আনা হলো তখন কর্তিত মস্তক মোবারক একটি পাত্রে রাখা হয়। অতঃপর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করতে লাগল আর হযরত হোসাইন (رحمة الله)'র সৌন্দর্য সম্পর্কে কটাক্ষ করতে লাগল। তখন হযরত আনাস (رضي الله عنه) বলেন-
فقلت والله انه كان اشبههم برسول الله صلى .الله عليه وسلم وكان مخضوبا بالوسمة
আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তিনি (হযরত হোসাইন (رحمة الله) রাসূল (ﷺ)'র সাথে সবচেয়ে বেশী সাদৃশ্য ছিলেন। আর তাঁর মস্তকে ওসামার খিযাব ছিল। ৫২
একদিন রাসূল (ﷺ) হযরত হোসাইন (رضي الله عنه) কে ডানে এবং স্বীয় পুত্র হযরত ইব্রাহীম (رضي الله عنه) কে বামে বসানো অবস্থায় ছিলেন। এ সময় জিব্রাইল (عليه السلام) এসে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ তায়ালা এদের উভয়কে আপনার কাছে রাখবেন না বরং এদের একজনকে আল্লাহ তায়ালা নিয়ে নেবেন। আপনি উভয় থেকে যাকে ইচ্ছে আপনার কাছে রাখতে পারেন। তখন রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন, যদি হোসাইন চলে যায় তাহলে আলী ও ফাতিমার মনে কষ্ট পাবে এবং আমিও কষ্ট পাবো। পক্ষান্তরে যদি ইব্রাহীম ওফাত প্রাপ্ত হয় তবে সর্বাপেক্ষা আমিই কষ্ট পাবো। তাই আমি আমার কষ্টকে পছন্দ করলাম। অর্থাৎ তিনি হোসাইন (رضي الله عنه) কে গ্রহণ করলেন আর নিজরে প্রিয় সন্তানকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলেন। এর তিনদিন পর হযরত ইব্রাহীম (رضي الله عنه) ইন্তেকাল করেন।
এরপর যখনই হযরত হোসাইন (رضي الله عنه) রাসূল (ﷺ)র খেদমতে আসতেন তখন নবী করীম (ﷺ) তাঁকে স্বাগতম জানিয়ে বলতেন আমি হোসাইনের উপর আমার সন্তান ইব্রাহীমকে উৎসর্গ করেছি।৫৩
৫২. বুখারী শরীফ, সূত্র: মিশকাত শরীফ, পুঃ- ৫৭২
৫৩. আব্দুর রহমান জামী (رحمة الله) (৮৯৮হি.), শাওয়াহেদুন্নবুয়াত, পৃঃ- ৩০৫
আসসালামু আলাইকুম ইসলামী বিশ্বকোষ গ্রবথ S2 : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.srizwan.islamipedia